জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিবাহ কবে হবে

    

বিবাহ মানুষের জীবনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।এই দিল্লিকা লাড্ডুর রয়েছে অনেক জানা অজানা স্বাদ। তাইতো সবাই বলে বিয়ে হচ্ছে দিল্লির লাড্ডু,যে খায় সে পস্তায় আর যে না খায় সেও পস্তায়।


এই লাড্ডু আপনি কখন খেতে পারবেন না আর কখন পারবেন না তা জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী আপনার জন্ম তারিখ থেকেই জানতে পারবেন। জ্যোতিষ শাস্ত্র আপনার জন্ম তারিখ জন্মের সময়-ক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন গণনা দিয়ে আপনার বিয়ের সময় বলে থাকে।আসুন আমরা সেই সম্পর্কে কিছু জেনে নিই। 

এই লেখা থেকে যা জানবেন

বিবাহের ইতিহাস 

বিবাহের সঠিক প্রচলন নিয়ে বেশ কয়েকটি ধারনা প্রচলিত রয়েছে।মানব সৃষ্টির শুরু থেকে বিবাহের প্রচলন হয়ে আসছে।সমাজভেদে বিবাহের ইতিহাস ভিন্নতা দেখা যায়।ইতিহাসের প্রথম বিয়ে হয় আদি মানব আদম (আঃ) ও মা হাওয়া (আঃ) মধ্যে।আল্লাহ তা'লা স্বয়ং এই বিয়ে সম্পন্ন করেন।
আমাদের এই পার্থিব জগতে প্রথম বিয়ে হয়েছিল মেসপোডেমিয়ায় আজ থেকে প্রায় ২৩৫০ খ্রিস্টপূর্ব সালে বলে প্রচলিত আছে।সমাজের বিভিন্ন ধরণের জাতির মধ্যে বিভিন্ন ধরণের বিয়ের রীতিনীতি প্রবর্তিত হতে হতে আজকের এই আধুনিক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।ধর্ম,শ্রেনী,এলাকাভেদে বিয়ের রীতিনীতি আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।

আরোও পড়ুন : নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা 

বিবাহের উপকারিতা ও অপকারিতা

অন্য আর সকল বিষয়ের মতো বিবাহেরও কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে।আসুন এইসব বিষয়ে জেনে নিই যেন আমরা সম্পর্ক সুন্দর রাখতে পারি।

উপকারিতা

মানসিক শান্তিঃ বিয়ের মাধ্যমে বিবাহিত দম্পতিরা একে অপরকে মানসিক সমর্থন দিয়ে থাকে এবং একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ অনুভূত হওয়ার কারনে মানসিক চাপ অনেক কমে যায়।
শারীরিক স্বাস্থ্যঃ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে বিবাহতরা সাধারণত শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে এবং বিবাহিতদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনঃ বিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে যা সামাজিক স্বীকৃতিসহ পরিবার গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
আর্থিক নিরাপত্তাঃ বিবাহের মাধ্যমে নারী-পুরুষ একে অন্যের সুখ দুঃখ ভাগ করে নেয় এবং দম্পতিরা আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ও একে অপরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হয়।
সন্তানদের সুস্থ জীবনঃ বিবাহিত পরিবারের সন্তানেরা মানসিক ও সামাজিকভাবে অধিক সুস্থ জীবন লাভ করে থাকে।

অপকারিতা

স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপঃ বিবাহিত জীবনে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি মানুষকে অস্থির করে তোলে তা হচ্ছে স্বাধীনতায় হস্তখেপ।বিবাহিত জীবনে অনেক সিধান্ত যৌথভাবে নিতে গিয়ে স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধতা চলে আসে।
দায়িত্ব ও চাপঃ বিবাহিত জীবনে জীবনসঙ্গী ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব অনেকটা বেড়ে যায় যা মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
আর্থিক চাপঃ সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও যথেষ্ট ইনকামের ব্যবস্থা না থাকলে আর্থিক চাপ বেড়ে যেতে পারে।
বিচ্ছেদঃ বিবাহের অন্যতম বড় একটি অপকারিতা হল কোন প্রকার সম্পর্কের টানাপড়নে পড়ে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে মানসিক চাপ অনেক বেড়ে যায়।

আরোও  পড়ুন :সুস্থ থাকতে প্রতিদিন খান চিয়াসিড

বিবাহের সঠিক বয়স 

ছেলেমেয়েরা বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক পরিবর্তন আসে তাদের মধ্যে।এই পরিবর্তনের কারনে একে অন্যের প্রতি টান অনুভব করে থাকে।তাদের এই টানকে একটি সুন্দর সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে প্রশ্রয় দেয়া হয় যাকে বিয়ে বলে।এই
টান অনুভবের বয়সের তারতম্য রয়েছে।তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ১২-১৮ এই সময়ের মধ্যে হয়ে থাকে। 

অঞ্চল,ধর্ম ,জাতি-গোষ্ঠী ও রাষ্ট্র অনুযায়ী বিবাহের বয়সের ক্ষেত্রে তারতম্য দেখা যায়।নারী-পুরুষের ক্ষেত্রেও রয়েছে বয়সের ভিন্নতা। আমাদের দেশে বিয়ের বয়স ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে আঠারো বছর সরকারিভাবে নির্ধারিত। আবার অন্যদেশে এটি কম বা বেশি হতে পারে।অন্যদিকে আমেরিকাতে দুই-একটি রাজ্য বাদে সাধারন বিয়ের বয়স ১৮ বছর।

জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিবাহ কবে হবে

 জ্যোতিষ শাস্ত্র বিভিন্ন গগণা কৌশল এর মাধ্যমে জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিবাহ কবে হবে বের করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।সাধারনত জন্ম তারিখ অনুযায়ী এই প্রথা অনুযায়ী কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।জন্ম তারিখ অনুযায়ী আপনাদের প্রেমের বিয়ে হবে না  এরেঞ্জ বিয়ে হবে সেই সম্পর্কে কিছু ধারনা পাওয়া যায়।আপনার জন্ম তারিখ অনুযায়ী এই গগনাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।


 ১,১০,১৯,২৮ তারিখের জাতকরা 

যেমন,যদি কার জন্ম তারিখ ১,১০,১৯,২৮ এই তারিখের মধ্যে হয় তাহলে তাদের ক্ষেত্রে প্রেমের বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর।এই তারিখে জন্মগ্রহঙ্কারীরা সাধারণত নিজের পছন্দে সব কাজ করতে চায়।এরা কোন সিধান্ত নেওয়ার আগে কার কোন কথা শুনতে চাইনা। জীবনসঙ্গী নির্বাচন থেকে শুরু করে জীবনের অন্য সকল বিষয়ে এরা নিজে থেকেই সিধান্ত নিয়ে থাকে। 

২,১১,২০,২৯ তারিখে জন্মগ্রহনকারীরা

এই তারিখে জন্মগ্রহনকারী জাতকরা সাধারণত আবেগপ্রবন ও মেজাজি হয়ে থাকে।আবার এরা সংবেদনশীল ও আপন মর্জির মালিক হয়ে থাকেন।এরা সাধারণত সঙ্গীকে কখনই আঘাত করতে চায়না।সবকিছুকে নিজের আবেগ ও মস্তিষ্ক দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে থাকেন এবং এরা মস্তিস্কের থেকে মনের কথা বেশি শুনে থাকেন।

৩,১১,২১,৩০ তারিখের জাতকরা

এই তারিখে জন্মানো জাতকরা যুক্তিবাদী হয়ে থাকে।এরা তেমন আবেগপ্রবন না হওয়ার কারনে সঙ্গীর সাথে বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করে না।এরা নিজের জীবনের সকল সিদ্ধান্ত যুক্তিতর্ক ও বিচার-বিশ্লেষনের মাধ্যমে নিয়ে থাকে।এরা নিজের আবেগের চাইতে মস্তিস্কের কথা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

৪,১২,২২,৩১ তারিখে জন্মগ্রহণকারীরা

এই তারিখের জাতকরা অসাধারন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হয়ে থাকে।এরা খুব বেশি রোমান্টিক না হলেও রোমান্টিক বিষয়ের প্রতি এদের অনেক টান থাকে।এই তারিখের জাতকরা একসাথে একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে।কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে।তবে অনেকের  ক্ষেত্রে আবার ব্যতিক্রম দেখা যায় যারা দাম্পত্য সম্পর্কে অসাধারন সততা ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধতার পরিচয় দিয়ে থাকেন।

৫,১৪,২৩ তারিখের জাতকরা

এই তারিখে যাদের জন্ম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। এরা পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কারনে ,এরা পরিবারের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করে।
এরা কিছুটা চঞ্চল প্রকৃতির হয়ে থাকে।জীবনসঙ্গী নির্ধারণের ক্ষেত্রে এরা তাদেরকে প্রাধান্য দেয় যারা তাদের জীবনকে পূর্ণতা দান করবেন বলে বিশ্বাস করে। 

৬,১৫,২৪ তারিখের জাতকরা

এই তারিখের জাতকরা অত্যন্ত গতিশীল,সুন্দর ও আকর্ষক হয়ে থাকে।বিবাহিত সঙ্গীর প্রতি শারীরিক সম্পর্কের থেকে আবেগপ্রবন সম্পর্ক তৈরির প্রতি বেশি মনযোগী হয়ে থাকে।এদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রেমের বিয়ে হয়ে থাকে।কিন্তু একাধিক সম্পর্কের কারনে অনেক সময় কাছের মানুষকে হারিয়ে ফেলে।

৭,১৬,২৫ তারিখের জাতকরা

এই তারিখে জন্মগ্রহনকারীরা অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকে। পৃথক ব্যক্তিত্বের হওয়ার কারনে এরা শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের হয়ে থাকে। এরা কথা কম বলে থাকেন এবং নিজের জীবনে কি করবে সেটা নিয়ে বেশি চিন্তা ভাবনা করে থাকেন।শাস্ত্র অনুযায়ী এই শ্রেণীর জাতকরা প্রেম করেন কিন্ত বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই পিছুটান দেয়।জন্ম শাস্ত্র অনুযায়ী এই তারিখের জাতকদের পরিবারের সম্মতিতে দেখা-শোনা করে বিয়ে করা উচিৎ। এরা সঙ্গীর প্রতি সৎ থাকলেও মাঝে মাঝে সামান্য কথা নিয়েও অনেক বড় ঝামেলা পাকিয়ে ফেলে।এদের উচিৎ সঙ্গীর সাথে আলোচনার মাধ্যমে সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা। 




৮,১৭,২৬ তারিখের জাতকরা

এই তারিখে জন্মগ্রহনকারী জাতকদের অন্যতম বিশেষ গুন হচ্ছে সততা ও বিশ্বস্ততা। এই জাতকরা সঙ্গীদের সাথে প্রায়ই ভুল বোঝাবুঝি করে থাকেন।ভালোবাসার ক্ষেত্রে তারা খুবই ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।তবে একবার কাউকে ভালোবাসলে তার জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে।শাস্ত্র জ্যোতিষ অনুযায়ী এই জাতকরা খুব সহজেই ৪এবং ৮ মুলাংকের জাতকদের আকৃষ্ট করতে পারেন।এই মুলাংকের জাতকদের প্রেমের বিয়ে সুখী ও সৌহারদ্যপূর্ণ হয়ে থাকে।

৯,১৮,২৭ তারিখে জন্মগ্রহণকারী জাতকরা

এই তারিখের জাতকরা আক্রমণাত্মক ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর থাকেন।এরা প্রেমের সম্পর্কে অতি আবেগপ্রবন হয়ে থাকে।এরা সঙ্গীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী থাকেন।সঙ্গী ও পরিবারের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে এরা শারীরিক চাহিদার জন্য বিয়ে বহির্ভূত সম্পরকেও জড়াতে পারে।

শেষ কথা

বিয়ে নিয়ে মানুষের রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে জানার অপরিসীম আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই মানুষের মনে ঘুরতে থাকে অসংখ্য প্রশ্ন।আমার এই লেখার মাধ্যমে আমি আপনাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি।

বিয়ে নিয়ে মানুষের মনে অনেক জিজ্ঞাসার একটি হয়ে থাকে কখন আমার বিয়ে হবে ? আমাদের বিয়ে কখন হবে তা একান্তভাবেই আমাদের ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বলে আমি বিশ্বাস করি।আমাদের সৃষ্টিকর্তা যেসময় লিখে রেখেছেন ঠিক সেই সময় হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md.Azizur Rahman
Md. Azizur Rahman
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও আজিজুর জেআর সার্ভিসেসের এডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।