আমার বিয়ে কবে হবে
সুচনা
আমার বিয়ে কবে হবে এই নিয়ে আমাদের সকলের মধ্যে জীবনের একটি সময় এই প্রশ্ন
আসে।আমরা ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকি।শৈশব কৈশোর জীবন পার করে যখন আমরা যৌবনে
পদার্পণ করতে থাকি,তখন আমাদের মধ্যে বিভিন্ন পরিবর্তন হতে থাকে।এই পরিবর্তন
আমাদের শারীরিক ও মানুষিক উভয়ক্ষেত্রে ঘটতে থাকে।আমরা তখন আমাদের বিপরীত লিঙ্গের
প্রতি আকর্ষণবোধ করতে থাকি।এই ধারা মানব সৃস্টির আদিকাল থেকেই চলে আসছে।
এই চাহিদাকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মানব সৃস্টির শুরু থেকে বিবাহ নামক একটি সামাজিক
রীতি চালু হয়ে আসছে।যুগযুগ ধরে আমাদের এই পৃথিবীতে বিবাহ নামক সামাজিক ধর্মীয়
রীতির প্রচলন হয়ে আসছে।সকল ধর্মে,সব জাতির মধ্যে বিবাহের প্রচলন রয়েছে।একেক জাতির
বিবাহের রীতি একেক রকম হয়ে থাকে।ধর্মীয় রীতি অনুযায়ীও বিবাহের আনুষ্ঠানিকতার ধরন
ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
পেজ সুচিপত্র:
বিবাহের সংজ্ঞা
আমার বিবাহ কবে হবে একথা জানতে চাওয়ার আগে আমাদের সবার উচিৎ বিবাহ বলতে কি বুঝায়
সে সম্পর্কে সঠিক ধারনা রাখা।বিবাহের তেমন কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকলেও,যুগে
যুগে বিভিন্ন ধারনার মধ্যে দিয়ে নারী-পুরুষ এই বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আসছে।
ইসলামে বিবাহ বলতে বুঝায় একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নারী পুরুষকে যৌন
মিলনের অনুমতি দেয়া।পৃথিবির প্রায় সকল ধর্মে অবাধে মেলামেশার ব্যাপারে নিষেধ করা
হয়েছে।আমরা যেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারী পুরুষ একসাথে থাকার বৈধতা পায় তাকেই
বিবাহ বলে।
বিবাহের ইতিহাস
আমার বিবাহ কবে হবে জানার আগে আমাদের বিয়ের ইতিহাস সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।মানব
সৃস্টির শুরু থেকেই বিয়ের প্রচলন হয়ে আসছে বলে বলা হয়ে থাকে।আল্লাহ তাআলা প্রথম
আদি মানব বাবা হযরত আদম (আঃ)-কে সৃস্টি করলেন এবং তাঁকে বেহেশতের মধ্যে থাকতে
দিলেন।
কিছুদিন যেতে আল্লাহ্ তাআলা লক্ষ্য করলেন আদম (আঃ) উদাসীন থাকেন।তখন আল্লাহ্
তাআলা বাবা আদম (আঃ) - এর জন্য একজন সঙ্গী হিসেবে মা হাওয়া (আঃ)-কে সৃস্টি
করেন।মহান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁদের মধ্যে বিবাহ দেন ফেরেশতারা এই বিয়ের সাক্ষী
ছিলেন।আমাদের পৃথিবীতে বিয়ের ইতিহাস খুজতে গেলে দেখা যাবে প্রাচীন মেসপোটেমিনিয়ায়
সর্ব প্রথম বিয়ের প্রচলন শুরু হয় বলে ধারনা করা হয়ে থাকে।
বিভিন্ন ধর্ম অনুযায়ী বিবাহের রীতি
আমার বিয়ে কবে হবে এই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছেই নেই।বলা হয়ে থাকে জন্ম,মৃত্যু
আর বিয়ে বিধির লিখন যা না যায় খন্ডন।এই কথার অর্থ হল মানুষের জন্ম কখন কোথায়
হবে তা আল্লাহ্ তাআলা ভালো জানেন আর কেউ তা বলতে পারে না।তেমনি কোন মানুষের
মৃত্যুও আল্লাহ্ তাআলাই নির্ধারণ করে রেখেছেন কোন মানুষের পক্ষে বলা সম্ভব নয়
কখন তার মৃত্যু হবে।বিবাহের ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম আল্লাহ্ তাআলা কারো বিয়ে যে
সময় যার সাথে নির্ধারণ করে রেখেছেন,সেই সময় তার সাথেই তার বিবাহ হবে।এটা কোন
মানুষের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।
এই পৃথিবীতে যেমন আলাদা আলাদা ধর্ম রয়েছে ,তেমনি রয়েছে আলাদা আলাদা ধর্মে আলাদা
আলাদা বিবাহের রীতিনীতি।আসুন কিছু ধর্ম অনুযায়ী বিবাহের কিছু রীতিনীতি জেনে নেওয়া
যাক।
ইসলাম ধর্ম অনুসারে বিয়ের রীতিঃ ইসলাম ধর্মমতে বিবাহের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের
মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি রয়েছে।ইসলামি বিবাহরীতিতে পাত্র পাত্রী
উভয়ের সম্মতিতে ও বিবাহের সময় উভয়পক্ষের বৈধ অভিভাবিক বা অয়ালির উপস্থিতিও
সম্মতির প্রয়োজন হয়।ইসলামী বিবাহে যৌতুকের কোন স্থান নেই।বিয়ের পূর্বেই পাত্রের
পক্ষ থেকে পাত্রীকে পাত্রীর দাবি অনুসারে একটি নির্দিষ্ট পরিমানের টাকা বা
অর্থসম্পদ বাধ্যতামুলক ও আবশ্যকভাবে দিতে হয়,একে দেনমোহর বলে থাকে।এছাড়াও বিয়ের
পর তা পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজন ব্যক্তিবর্গদেরকে জানিয়ে দেওয়াও ইসলামী
করনীয়সমুহের মধ্যে পড়ে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী একজন পুরুষ সকল স্ত্রীকে সমান অধিকার প্রদানের তার চাহিদা
অনুসারে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারবে।আর যদি সমান অধিকার প্রদানে অপারগ হয়ে
থাকে তাহলে কেবল একটি বিয়ের অনুমতি পাবে।মেয়েদের ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের অনুমতি
নেই।একজন মুসলিম আকজন অমুসলিমকে ইসলাম ধর্ম অনিযায়ী বিয়ের অনুমতি পাবে, যদি সেই
অমুসলিম ঈমান আনে অর্থাৎ ইসলাম গ্রহন করে তাহলে।
খ্রিস্টান ধর্মে বিবাহরীতিনীতিঃ খ্রিস্টান ধর্মে বিবাহরীতিতে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম
করে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে।নিচে সেই বিষয়ে আলোচনা করা হলঃ
নির্বাচন : খ্রিস্টান সমাজে সাধারণত প্রথমে পাত্রী দেখা হয়। প্রথমত বরপক্ষই কনে
নির্বাচন করে। বরপক্ষ কনে নির্বাচন করে কনের চরিত্র, দোষ-গুণ, বংশ পরিচয় জেনে
নেয়।
প্রস্তাব : শুভদিন দেখে বরপক্ষ কনের বাড়ি যায়। সাধারণত পাশের কোনো আত্মীয়ের
বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে কনের বাড়ি যায় এবং তাদের উদ্দেশ্যের কথা জানায়।
বাগদান : বরপক্ষের প্রস্তাবে কনেপক্ষ রাজি হলে বাগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কোথাও এ অনুষ্ঠানকে ‘পাকা দেখা’ও বলে। ভাওয়ালে এ অনুষ্ঠানকে ‘পানগাছ’ অনুষ্ঠান
বলে। বাগদান উপলক্ষে পান, সুপারি, বিজোড় সংখ্যক মাছ নিয়ে যাওয়া হয়।
বাইয়র : এই অনুষ্ঠানে বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়িতে যায়। যা আগেই কথা বলে ঠিক
করে রাখা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর-কনে সবার আশির্বাদ গ্রহণ করে।
নাম লেখা : বিয়ের ৩ সপ্তাহ আগে কনের বাড়িতে পুরোহিতের কাছে বর-কনে নাম লেখান।
অনেকে এ অনুষ্ঠানে আতসবাজি ও বাজনার আয়োজন করে।
বান প্রকাশ : এই অনুষ্ঠানে বর-কনে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ডলীর বিধি
অনুযায়ী এ সময় বিয়ের ক্লাস করতে হয়। এটি বিয়ে পূর্ব বাধ্যতামূলক ক্লাস
ব্যবস্থা।
অপদেবতার নজর : নাম লেখা থেকে শুরু করে বিয়ের আগ পর্যন্ত বর-কনেকে অতি সংযমী
জীবন করতে হয়। অনেকে এ সময় ভূত-প্রেত ও অপশক্তির নজর থেকে রক্ষার জন্য ‘রোজারি
মালা’ বা ‘জপমালা’ গলায় পরেন।
কামানি বা গাধোয়ানী : বিয়ের আগের রাতের অনুষ্ঠানকে গা-ধোয়ানী বলে। অনেক
খ্রিস্টান সমাজে এই দিন গায়ে হলুদ মাখিয়ে জাকজমকের সঙ্গে অনুষ্ঠান করা হয়।
কনে তোলা : বিয়ের দিন ভোরে বাদকদলসহ বরের আত্মীয়-স্বজন কনের বাড়ি গিয়ে কনেকে
নিয়ে আসে। কনেকে ঘর থেকে আনার সময় তার হাতে পয়সা দেওয়া হয়। কনে বাড়ি থেকে
আসার সময় সেই পয়সা ঘরের মধ্যে ছুড়ে ফেলে। এর অর্থ হল যদিও সে বাড়ি থেকে চলে
যাচ্ছে, তারপরও বাড়ির লক্ষ্মী ঘর থেকে চলে যাচ্ছে না।
গির্জার অনুষ্ঠান : শুরুতে গির্জার প্রবেশ পথে যাজক বর-কনেকে বরণ করে নেয়। তারপর
বর-কনে দুজনের মধ্যে মালা বদল করা হয়।
ঘরে তোলা : এই অনুষ্ঠানে উঠানের দিকে মুখ করে বড় পিঁড়ির উপরে বর-কনেকে দাঁড়
করানো হয়। এরপর বর-কনে সাদা-লাল পেড়ে শাড়ির উপর দিয়ে হেঁটে ঘরে ওঠে। এ সময়
বর ও কনে একে অপরের কনিষ্ঠ আঙুল ধরে থাকে।
আরো পড়ুনঃ জন্ম তারিখ অনুযায়ী বিয়ে
হিন্দু বিবাহরীতি
পুরোহিতের সাহায্যে মিলিত হওয়ার জন্য পুত্র বা কন্যার জাতকাম বা জন্ম কুন্ডালির
(জন্মের সময় জ্যোতিষশাস্ত্রীয় চার্ট) ব্যবহার সাধারণ, তবে সর্বজনীন নয় তামিল
ভাষায় 'জোথিদার' বা উত্তর ভারতের তেলুগুতে 'পান্থুলু বা সিদ্ধন্তী' নামে পরিচিত
ব্রাহ্মণের কাছ থেকেও অভিভাবকরা পরামর্শ নিয়ে থাকেন, যাদের বিবাহ করার জন্য অনেক
লোকের বিবরণ রয়েছে। মিথিলাতে ব্রাহ্মণদের মতো কিছু সম্প্রদায় বিশেষজ্ঞদের
দ্বারা বজায় রাখা বংশবৃত্তীয় রেকর্ড ("পজ্ঞিকা") ব্যবহার করে।হিন্দু
শাস্ত্রমতেও বিবাহের বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে ।তারমধ্য থেকে কয়েকটি নিয়ে নিম্নে
আলোচনা করা হলঃ
ব্রাক্ষবিবাহঃব্রহ্ম বিবাহ হ'ল বেদে শিখেছিলে এবং নিজের দ্বারা নিমন্ত্রিত ভাল
গুনসম্পন্ন আচরণের লোকের সাথে কন্যার বিবাহ হয়। একটি ব্রহ্ম বিবাহ হল যেখানে
একটি ছেলে তার ছাত্রত্ব বা ব্রহ্মাচার্য শেষ করে একবার বিয়ে করতে সক্ষম হয়।
ব্রহ্ম বিবাহ আট ধরনের হিন্দু বিবাহের মধ্যে সবচেয়ে সর্বোচ্চ অবস্থান। ছেলের
বাবা-মা যখন কোনও পাত্রী খোঁজেন, তারা তার পারিবারিক পটভূমি বিবেচনা করতেন, তবে
মেয়ের বাবা তার ছেলেকে নিশ্চিত করতে যে তার ছেলের সাথে বিয়ে করতে চায় সে বেদের
জ্ঞান রাখে। এই বিষয়গুলিই যৌতুকের ব্যবস্থা নয়, ব্রহ্ম বিবাহের ভিত্তি তৈরি
করে। এই ধরনের বিবাহে যৌতুক পাপ হিসাবে বিবেচিত হয়।
অসুর বিবাহঃ অসুর বিবাহ হল যখন বর পাত্রী প্রথম মেয়ের সাথে তার নিজের ইচ্ছামত
সম্পদ অর্জন করার পরে পাত্রী এবং তার আত্মীয়স্বজনদের কাছে ধন-সম্পদ অর্জন করে।
এটিই অসুর বিবাহ যা অন্য ধরনের বিবাহ থেকে নিজেকে আলাদা করে তোলে। এটি এমন একটি
বিবাহ যেখানে পাত্রী কনের সাথে প্রায়শই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না এবং কিছুটা
অস্বাভাবিকতাও অর্জন করতে পারে তবে পাত্রীর পিতৃপুরুষের লোভ বা বাধ্যতামূলকভাবে
বরের ইচ্ছা এবং ধনসম্পদ এটিকে দিতে পারে। সর্বদা এই ধরনের বিবাহকে নীচু বিবেচনা
করা হত। আধুনিক সময়ে এটি অগ্রহণযোগ্য কারণ এটি অনেকটা শেল্ফের বাইরে পণ্য কেনার
মতো এবং সাধারণ ভারতীয় আইনের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও অর্শ বিবাহ, দৈব বিবাহ,রাক্ষস বিবাহ,পৈশাচ বিবাহ নামের আরোও কিছু বিবাহের
প্রথা চালু রয়েছে
আরো পড়ুনঃ ফ্রি টাকা ইনকাম
বিবাহের প্রকারভেদ
যুগে যুগে আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরণের বিয়ের প্রচলন হয়ে আসছে।ভিন্ন ভিন্ন
জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে যুগে যুগে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে বিবাহ রীতি প্রচলিত রয়েছে।এইসব
জাতি গোষ্ঠীর বিবাহের এইসব রীতিনীতির উপর নিরভর করে বিবাহকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা
হয়েছে।
বাল্যবিবাহঃসাধারণত যখন বর-কনে প্রাপ্ত বয়স্ক না থাকে অর্থাৎ কওন এলাকার বা
রাষ্ট্র দ্বারা নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ে বসলে তাঁকে বাল্যবিবাহ বলে।আমাদের দেশের
আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ একটি অপরাধ হিসেবে গন্য করা হয়ে থাকে।
বহুবিবাহঃ বহুবিবাহ বলতে বুঝায় যখন একজন পুরুষ এক স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায়
আরেকজন মেয়েকে বিয়ে করে।আমাদের ধর্মেও বহুবিবাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে। ইসলাম
ধর্মমতে একজন পুরুষ এক সাথে চারজন মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে।কিন্ত কোন মেয়ে মানুষ
একসাথে একের অধিক পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে।পুরুষের একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে একটি
বিষয়ে লক্ষ রাখার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।তা হল একজন পুরুষ যদি একসাথে
একাধিক স্ত্রী রাখতে চায়,তাহলে সবাইকে সমান চোখে দেখতে হবে,কারো প্রতি
পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না।আর যদি সবাইকে সময়ান চোখে দেখা সম্ভব না হয় তাহলে একজন
স্ত্রী রাখতে বলা হয়েছে।
বিধবা বিবাহঃবিধবা বিবাহ বলতে বুঝায় সাধারণত কোন মেয়ের স্বামী মারা গেলে সেই
মেয়ের আবারও কারো সাথে বিয়ে বসাকে। কোন মেয়ের স্বামী মারা গেলে তাঁকে বিধবা বলা
হয়ে থাকে।
বিয়ের প্রস্তুতি
আমার বিয়ে কবে হবে এই প্রশ্ন মনে আসার সাথে সাথে আমাদের চারপাশ থেকে আমাদের জন্য
যে প্রশ্নটি সবার আগে ভেসে আসে তা হল আমরা কি বিয়ে করার যোগ্য কিনা।
বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ের যোগ্যতাঃ
ছেলে হোক বা মেয়ে হোক যদি নিজে থেকে কেউ বলে আমার বিয়ে কবে হবে,তাহলে তার
চারপাশের লোকজন তাঁকে এই প্রশ্নগুলো করবে তোর বিয়ে করার যোগ্যতা হয়েছে।সাধারনত
ছেলেদের ক্ষেত্রে যোগ্যতার প্রশ্নটি বেশি আসে।একজন ছেলে মানুষ বিয়ের জন্য শুধু
বয়স বাড়লেই যোগ্য বলে বিবেচিত হয় না।বয়সের সাথে সাথে তার আয়-রোজগার করার ক্ষমতা
কতটুকু হয়েছে,সে অন্য আরেকজন মানুষের দায়িত্ব নেওয়ার মত মানুষিক দক্ষতা অর্জন
করেছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে খেয়াল রাখা হয়।মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়স,শারীরিক পরিবর্তনের
পাশাপাশি অন্য নতুন জায়গায় মানিয়ে নেওয়ার জন্য কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করেছে এইসব
বিষয়ে খেয়াল রাখা হয়।
সাধারণত বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সরকার বিয়ের জন্য ছেলে মেয়েদের একটি বয়স
নির্দিষ্ট করে দেয়। আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশে বর্তমানে
ছেলেদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়স হচ্ছে ২১ বছর। অর্থাৎ একজন ছেলে একুশ বছর বয়স
হলে সরকারিভাবে বিয়ের জন্য উপযুক্ত হবে। অন্যদিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই বয়স
সরকারিভাবে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোন মেয়ের যদি বয়স ১৮ হয় তাহলে
সেই মেয়ের বিয়ে দিতে পারবেন।
বিবাহের উদ্দেশ্য
আমরা যেকোন কাজ করে থাকি না কেন তার পিছনে অবশ্যই কোন না কোন উদ্দেশ্য থাকে।বিয়ের
ক্ষেত্রে এর কোন ব্যতিক্রম নেই।আমার বিয়ে কবে হবে এই চিন্তা মনে আসার পাশাপাশি
আরেকটি বিষয়ে নিয়ে আমাদের ভাবনা চিন্তা করা উচিত।কেন আল্লাহ তাআলা বিয়ের মত একটি
নিয়ামত আমাদের জন্য নির্ধারণ করলেন।এর উদ্দেশ্য কি হতে পারে।
সঙ্গীর দরকারঃমানুষ একটি বয়সের পর নিজেকে খুব একা অনুভব করে।সেই সময় তার মনে হতে
থাকে যে এই সময় একজন সার্বক্ষণিক সঙ্গী সাথে থাকে প্রয়জন।নিজের ভালো লাগা খারাপ
লাগা বিষয়গুলো কারো সাথে শেয়ার করা দরকার।এই উদ্দেশ্যে মানুষ বিয়ে করে।
বংশবৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যেঃ মানুষের বিয়ে করার আরেকটি অন্যতম উদ্দেশ্য হল বংশ
বৃদ্ধি করা।বিয়ের মাধ্যমে মানুষ বৈধভাবে সন্তান-সন্ততি লাভ করতে পারে যার মাধ্যমে
বংশ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়।
শারীরিক চাহিদা মেটানোঃমানুষের বিয়ে করার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে শারীরিক চাহিদা
মেটানো।মানুষ বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের জৈবিক চাহিদা অনুভব করে।বিপরীত লিঙ্গের
প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে থাকে।তখন মানুষ বিয়ের কথা চিন্তা করে।কারন বিবাহই
একমাত্র বৈধ পন্থা যার মাধ্যমে মানুষ তার শারীরিক চাহিদা মেটাতে পারে।
বিয়ের পাত্র-পাত্রী নির্বাচন
আমার বিয়ে কবে হবে এই প্রশ্নের পাশাপাশি একজন মানুষের মনে আরেকটি প্রশ্ন সাথে
সাথেই উকি দেয় তা হচ্ছে কার সাথে আমার বিয়ে হবে।এই ক্ষেত্রে বিষয়টি দুইদিক থেকে
চিন্তা করা যায়। অনেকে লাভ ম্যারেজ করে থাকে আবার অনেকে পরিবারের পছন্দে দেখাশোনা
করে বিয়ে করে থাকে। বিয়ের পাত্রপাত্রী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বেশকিছু বিষয়ে
লক্ষ্য রাখার কথা বলা হয়েছে।ছেলেমেয়ের আচারন,শিক্ষাদিক্ষা, শারীরিক যোগ্যতা
ইত্যাদি প্রধান বিষয়।
মোহরানা ধার্য: মুসলিম ধর্ম অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন করতে মোহরানা ধার্য করতে
হয়।এটি ছেলের পক্ষ থেকে মেয়েকে এককালীন কিছু টাকা দিতে হয়। মোহরানা আদায় করতে
ধর্মে বিশেষ ভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মোহরানার বিষয় শুধু টাকা না হয়ে অন্য
কিছুও হতে পারে। যেমন - অনেক অঞ্চলে সোনার গয়না মোহরানা হিসেবে দেয়া হয়।
আরো পড়ুনঃনিউজিল্যান্ড যেতে চাই
বিবাহের সাজ-সজ্জা
আমার বিবাহ কবে হবে এই কথা জানার পাশাপাশি আমাদের বিবাহের পোশাক সম্পরকেও জানা
প্রয়োজন।বিবাহের পোশাক আশাক আলাদা আলাদা ধর্ম ও আলাদা আলাদা কালচার অনুযায়ী
আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে মুসলিম মেয়েদের বিয়েতে সাধারণত লাল রঙের
শাড়ি পরে থাকে। আবার অনেকেই ইদানিং বিয়ের পোশাক হিসেবে লেহেঙ্গা পছন্দ করে
থাকে। আগেকার দিনে বেশিরভাগ মেয়েই লাল শাড়ি পরলেও বর্তমানে অনেকেই অন্যান্য রঙ,
যেমন -বেগুনি,খয়েরি, জাফরান ইত্যাদি রঙের শাড়িও পছন্দ করে থাকে। পুরুষদের
ক্ষেত্রে বিয়ের পোশাক হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রচলন রয়েছে সেরওয়ানি ও পাঞ্জাবির।
আগের দিনে পাঞ্জাবির প্রচলন বেশি থাকলেও বর্তমানে বেশিরভাগ পুরুষ শেরওয়ানি বেশি
পছন্দ করে।এর সাথে মানানসই পাগড়ি বা টুপি পরে, সাথে পায়ে পরে এক ধরনের জুতা।
খ্রিস্টানে মেয়েরা বিয়ে উপলক্ষে সাদা রঙের পোশাক পড়ে আর ছেলেরা সাধারণত কালো রঙের
ফরমাল পোশাক পড়ে থাকে।অপরদিকে হিন্দুদের ক্ষেত্রে মেয়েরা লাল রঙের শাড়ি আর
ছেলেদের ক্ষেত্রে ধুতি-পাঞ্জাবি পরার চল সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়।
বিবাহের উপকারিতা ও অপকারিতা
বিবাহের ঊপকারিতাঃ
১) লজ্জা স্থান ও চোখের হেফাজত হয়। সাধারণত মানুষ লজ্জা স্থান ও চোখের মাধ্যমে
নারী ঘটিত পাপগুলো বেশি করে থাকে।তাই বিবাহের মাধ্যমে এই পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া
যায়।এই বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে
যারা সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে,আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোযা রাখে। কেননা
বিবাহ মানুষের দৃষ্টি শক্তিকে অবনত রাখে এবং লজ্জা স্থানের হেফাজত করে।
২) শ্রেষ্ঠ সম্পদ অর্জন করা যায়ঃইসলাম নারীকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে সর্বোচ্চ
সম্মান দিয়েছে।আর এই সম্পদ অর্জন করা সম্ভব কেবলমাত্র বিবাহের মাধ্যমে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'দুনিয়ার সমস্ত কিছুই (তুচ্ছ
ও ক্ষণস্থায়ী) ধন -সম্পদ।( তন্মধ্যে) মুসলিম সতীসাধ্বী রমণী হলো সর্বশ্রেষ্ঠ
সত্রত্যস্পদ।(মুসলিমঃ১৪৬৭)।
৩) সম্পদের রক্ষক মিলেঃমানুষের সম্পদ সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে।ঘরের সম্পদ ও
বাইরের সম্পদ।ঘরের সম্পদ,যেমন- সংসার,সন্তান-সন্ততি,জীবনযাপনের উপকরন
ইত্যাদি।বাইরের সম্পদ, যেমন- বযবসা-বানিজ্য,চাকরি-বাকরি ইত্যাদি।পুরুস মানুষ
সাধারণত বাইরে থাকে এবং বাইরের সম্পদের বেশি খেয়াল রাখে।আর নারীরা ঘরে থাকার
কারনে ঘরের সম্পদের খেয়াল রাখে।
আরো পড়ুনঃ দুবাই ভিসা পেতে করনীয়
আর স্ত্রী না থাকলে পুরুষের সাধারণত সন্তান সংসার কিছুই হয় না।রাসুল (সাঃ) বলেন,
উট আরোহণকারিণীদের মধ্যে সর্বোত্তম নারী কুরাইশ বংশের নারীগণ।তারা শৈশবকালে
সন্তানদের প্রতি অধিক স্নেহপরায়না হয় এবং স্বামীর ধন-সম্পদের উত্তম
রক্ষনাবেক্ষণকারিণী হয়।(বুখারিঃ৫০৮২)।
৪) ফেতনায় পড়ার শংকা কমঃমানুষ প্রথাগতভাবেই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব
করে থাকে।এর বাইরে কোন সুস্থ্য মানুষ নেই। সাধারণত মানুষ প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর
থেকেই একজন পুরুষ একজন নারীর প্রতি আকর্ষণবোধ করতে থাকে।আর এই আকর্ষণ থেকেই
অনেকের ক্ষেত্রে ফেতনা- ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।তাই এই থেকে
বাঁচতে সকলের বিবাহ করা উচিৎ।
এই সম্পর্কে রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেন,'আমার (ইন্তেকালে) পরে আমার উম্মাতের পুরুষদের
জন্য নারী অপেক্ষা অধিক ফেতনার শংকা আর কিছুতেই রেখে যায়নি।(বুখারিঃ৫০৯৬)।সুতরাং
বিয়ে করলে নারীঘটিত অপরাধ কম হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
৫) আল্লহর আদেশ পালন করাঃ বিবাহ করলে আল্লাহ তাআলার(জায়েয) নির্দেশনা পালন
হয়।পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে
বলেছেন,''তোমরা নারীদের মধ্যে থেকে যাকে তোমাদের পছন্দ হয়,দুই,তিন অথবা চারজঙ্কে
বিবাহ কর।অবশ্য যদি আশংকা বোধ করো যে,তোমরা তাদের(স্ত্রীদের) মধ্যে সুবিচার করতে
পারবে না,তবে এক স্ত্রীতে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীতে(ক্ষাত্ন থাকো)।"(সুরা
আন-নিসাঃ০৩)।
বিবাহের অপকারিতা
বিয়ে যে শুধু আমাদের জীবনে সকল প্রকার উপকারিতে নিয়ে আসে তা নয়।অন্যান্য আর সকল
বিষয়ে যেমন উপকারিতার পাশাপাশি কিছু অপকারিতা থাকে বিবাহের ক্ষেত্রেও এর
ব্যতিক্রম নয়।
১)খরচ বেড়ে যাওয়াঃবিয়ে করা মানে অন্য আরেকজন মানুষের দায়িত্ব নেওয়া।দায়িত বলতে
সেই মানুষটার খাওয়া পরা থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেওয়আ।তাই বিয়ে করলে
একজন অতিরিক্ত মানুষের দায়িত্ব নিতে গিয়ে খরচ অনেকটা বেড়ে যায়।
২)ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপঃ বিয়ের পরে নিজের সব কিছুই অন্য আরেকজনের সাথে
ভাগাভাগি করতে গিয়ে নিজের ব্যক্তি স্বাধীনতায় অনেকটা কমে যায়।আপনার ব্যক্তিগত
বন্ধু-বান্ধব,বাইরে সময় কাটানো সবকিছুই আপনাকে কমাতে হয়।আপনি স্বাধীনভাবে আর
আপনার জীবন উপভওগ করতে পারবেন না।
৩)মানসিক শান্তি কমার আশংকাঃ বিবাহের মাধ্যমে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের সাথে
জীবনের সুখদুঃখ ভাগ করে নেয়।কিন্তু যদি আপনি ভুল মানুষের সাথে আপনার জীবনকে জড়িয়ে
ফেলেন তাহলে আপনার মানুসিক শান্তি নষ্ট হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিবাহের উৎসবসমুহ
বিবাহের উৎসবসমুহঃবিবাহ ঠিক হয় সাধারনত পাত্র-পাত্রী নির্ধারণের মধ্য দিয়ে।পছন্দ
করে পাত্রপাত্রী উভয় পক্ষের আভিভাবকের সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে বিয়ের দিনক্ষণ
ঠিক করা হয়।এরপর বিবাহ উপলক্ষ্যে এক বা একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।তার
মধ্যে অন্যতম প্রধান অনুষ্ঠানগুলো হল, গায়ে হলুদ,বিবাহের অনুষ্ঠান ও বৌ-ভাত
প্রধান।
১)গায়ে হলুদঃএই অনুষ্ঠান সাধারণত বিয়ের আগেই করা হয়।এই অনুষ্ঠানে বিয়ের বর/ কনে
গাঁয়ে হলুদ দেওয়া উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।বর /কনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব ও
পরিবারের নিকট আত্মীয় স্বজনদের এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়।
সাধারণত অনেক রকমের মিষ্টান্ন জাতীয় খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলমুল ও
অন্যান্য খাবার বর/কনের সামনে রাখা হয় এবং এই অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা বর/কনেকে
এসব খাবার থেকে কিছু খাবার খাইয়ে থাকে।এর পাশাপাশি এখানে কাঁচা হলুদও বেটে রাখা
হয়, যা আগত অতিথিরা বর/কনের গায়ে লাগিয়ে থাকে। অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমন্ত্রিত
অতিথিদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
২) বিয়ের দিনঃ একটি বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা সাধারণত বিয়ের দিন করা হয়ে থাকে।
বিয়ে উপলক্ষে আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু বান্ধবদের দাওয়াত দেয়া
হয়। এইসব আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে।এর পাশাপাশি
বিয়েতে বরের বাড়ি থেকে বরের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব কনের বাড়ি আসে।এই
বরসহ বরের বাড়ি থেকে আসা লোকদেরকে বলা হয় বরযাত্রী। বরযাত্রীদের জন্য আলাদা
খাবারের আয়োজন করে থাকে। বরযাত্রীদের আপ্যায়নের মধ্যে দিয়ে সাধারণত বিয়ের
দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।এরপর কাজী অথবা মৌলভী ডেকে বর ও কনের পক্ষের কয়েকজন
সাক্ষীর সামনে মেয়ের বিয়েতে মত নেওয়া হয় তারপর ছেলের মত নেওয়া হয় এভাবে
উভয় পক্ষের মত নেওয়ার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এরপর সবাই মিলে আল্লাহর কাছে বর-কনের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের
জন্য দোয়া করা হয়।এরপর বর পক্ষের ও কনের পক্ষের উভয় পক্ষের আগত অতিথিদের
খাবারের আয়োজন করা হয়। খাবারের তালিকায় থাকে মুরগির রোস্ট,গরুর মাংস,খাসির
রেজালা ইত্যাদি।এছাড়াও দই/জর্দার ব্যবস্থা থাকে।সাথে থাকে কোমল পানীয় অথবা
বোরহানি। খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হলে আসে কনেকে বিদায় দেবার পালা।কনের পক্ষের
মুরুব্বিরা সাধারণত বর ও বরের পক্ষের মুরুব্বিদের কাছে মেয়েকে তুলে দেন।এই সময়
একটু হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কনে তার চিরচেনা পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন
করে নতুন জীবনে পদার্পণ করে।
৩) বৌ-ভাতঃ সাধারনত বিয়ের পর বরের বাড়িতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই
অনুষ্ঠানে বরের আত্মীয় স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী বন্ধু বান্ধবীদের দাওয়াত করে
খাওয়ানো হয়। সেই সাথে কনের বাড়ি থেকে কনেকে নিতে আসা আত্মীয় স্বজনদের খাওয়ার
ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।এই অনুষ্ঠানের পর বর কনে সাধারণত কনের বাড়ি থেকে আসা
আত্মীয় স্বজনের সাথে কনের বাড়ি যায়।আমার বিয়ে কবে হবে এই কথা জানার সাথে সাথে
আমাদের এইসব বিসয়গুলোও জানা দরকার।
আরো পড়ুনঃ সুপারফুড চিয়াসিড
দ্রুত বিবাহের আমলসমুহঃ
আমার বিয়ে কবে হবে এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া গেলেও যেন বিয়ে দ্রুত হয় সে বিষয়ে
কিছু আমল রয়েছে।এই আমলগুলো পালন করলে ও আল্লহর উপর ভরসা করলে দ্রুত ফল পাওয়া
যায়।যদি কারো বিয়ে না হয় তাহলে বেশি বেশি সুরা ইয়াসিন পাঠ করতে বলা হ্যেছে।সুরা
ইয়াসিনকে বলা হয় কুরআন শরীফের হ্রিদপিন্ড।সকল সমস্যার সমাধান লাভের আশায় সুরা
ইয়াসিন পাঠ করতে বলা হয়।
এছাড়াও কারো দ্রুত বিয়ে না হলে সুরা দোহার ও সুরা কাসাসের ২৪ নাম্বার আয়াত
তিলাওয়াত করার ব্যাপারে বলা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে হযরত মুসা(আঃ) যখন একাকীত্ব বোধ
করেছিলেন তখন এই দুয়া পরেছিলেন।অনেক ইসলামী স্কলারের মতে এই দুয়া দৈনিক ১০০ বার
পড়লে দ্রতই উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়া যায়।
দ্রুত বিবাহের জন্য আল্লাহর গুনবাচক নামগুলো পড়লে তাড়াতাড়ই ফল পাওয়া যায়।বলা হয়ে
থাকে প্রতিদিন প্রত্যেক নামাজের পর টানা ৪১দিন এই আমল করলে দ্রত বিবাহ হওয়ার
সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।তাই কারো বিয়ে না হলে এই আমল করে দেখতে পারেন।
প্রতিদিন সুরা তওবার ১২৯নং আয়াত ১৯ বার বিসমিল্লাহ্র সহিত ১১০০ বার যেকোন
নামাজের পর পড়লে দ্রুত আপনার বা আপনার সন্তানের দ্রুত বিয়ে হবে।এছাড়াও প্রতিদিন
মেয়ে অথবা মেয়ের মা যেকোন সালাতের পর সুরা মারিয়ম পাঠ করলে দ্রুত বিবাহ সম্পন্ন
হয়।
এগুলো ছাড়াও দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার বিশেষ কিছু আমল রয়েছে,যেমন-দিনের যেকোন সময়
দুই রাকাত সালাত আদায়ের পর ১১বার দরূদ শরিফ,৩৩ বার সুবহানাল্লাহ,৩৩ বার
আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবর পাঠ করা।এছাড়াও সুরা মুযযামিল ২১বার
শুক্রবারে জুম্মার নামাযের পর দুই রাকাত নামায আদায় করে মেয়ের মা / বাবা পাঠ করলে
দ্রুত মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব আসে।
উপসংহার
আমি আমার লেখার মাধ্যমে বিয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।যেখানে আমি বিয়ে নিয়ে
বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছি, যেমন-বিভিন্ন ধর্মে বিয়ের রীতিনীতি,বিয়ের বিভিন্ন
আনুষ্ঠানিকতা,দ্রুত বিয়ে করার আমল সমূহ ইত্যাদি বিসয়।এছাড়াও আমি আমার লেখার
মাধ্যমে বিয়ে বিষয়ে যতটুকু সম্ভব সব খুটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।
আমাদের মধ্যে অনেকেই এই চিন্তা করে থাকে যে, আমার বিয়ে কবে হবে কিন্তু কারো বিয়ে
কবে হবে সেই বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না।একমাত্র আমাদের সৃষ্টিকর্তা জানেন কবে
কখন কার সাথে কার বিয়ে হবে।সুতরাং বিয়ে কবে হবে এই নিয়ে আমাদের কারো মাথা ঘামানোর
কিছু নেই আল্লাহ্ তাআলা নির্ধারিত সময়ে সকলের বিয়ে হবে।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url